Search

Showing posts with label Nazmush Shakib. Show all posts
Showing posts with label Nazmush Shakib. Show all posts

কিছু কিছু মুভি আছে যেগুলো দেখার পরও তার আবেদন কোনো অংশে ফুরায় না। Scent of a Woman ঠিক সেই ধরণের বিরল মুভিগুলোর একটা। মুভিটা দেখার পর স্তব্ধ হয়ে ভাবছিলাম, একটা মুভি কিভাবে এতটা হৃদয়গ্রাহী হয়! কোন রক্ত মাংশের মানুষের পক্ষে কিভাবে সম্ভব এতটা নিখুঁতভাবে নিজের চরিত্রকে রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা! আমার মনে হচ্ছিলো যে জীবনে আমার আর কোন মুভি দেখা হয় নাই! আর কোন মুভি জীবনে না দেখলেও ক্ষতি নাই!

মুভিটার নাম ভুমিকায় অভিনয় করেছেন Al Pacino ।ভদ্রলোকের অনেক মুভি দেখেছি আগে। কিন্তু বাজী ধরে বলতে পারি এই মুভিটা না দেখে যদি বলতাম "আমি আল পাচিনোর মুভি দেখেছি - তার অভিনয় আমার অনেক ভালো লাগে, তিনি একজন ওস্তাদ অভিনেতা" সেটা হতো মিথ্যা বলা! এই মুভিটা না দেখলে অভিনেতা আল পাচিনো কে চেনা যাবে না। জানা যাবে না কতো বড় মাপের অভিনেতা তিনি। স্যালুট টু আল পাচিনো! উল্লেখ্য, এই মুভিতে অভিনয় করে তিনি অস্কার পেয়েছিলেন।

পাঠক, বিশ্বাস করুণ, উপরের প্যারা দুটি দিয়ে আমি আমার মুগ্ধতার কিয়দংশ মাত্র প্রকাশ করেছি।আমি নগণ্য ব্লগার, কতোটুকুই বা আমার প্রকাশ ক্ষমতা! আমি আমার সীমিত লেখনিতেই প্রকাশ করলাম আমার ভালোবাসা। শুধু একটা কথাই বলতে পারি, এই মুভিটা দেখার পর এখন থেকে আল পাচিনো আমার চোখে অল টাইম বেস্ট। জানিনা কোনো দিন এই ধারণা পালটে দেয়ার মত আর কোনো অভিনেতা আসবেন কি না!

এবার নজর দেয়া যাক মুভির দিকে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফ্র্যাঙ্ক স্লেড (আল পাচিনো) একজন রিটায়ার্ড আর্মি অফিসার। অন্ধ, আত্যন্ত বিদ্ঘুটে মেজাজ। দুনিয়ার সব কিছুর উপর রেগে থাকা, বেঁচে থেকেও জীবনের উপর বীতশ্রদ্ধ এক হতভাগ্য ব্যাক্তি। জীবন একসময় তাকে সব দিয়েছিলো। কালের প্রবাহে আজ তিনি অন্ধ। একসময়ের পরাক্রমশালী আর্মি আফিসারের চোখে জীবন এখন শুধুই বোঝা মাত্র!

অন্যদিকে চার্লি সিমস (ক্রিস ও' ডোনেল) একটা স্বনামধন্য প্রিপারেটরী স্কুলের ছাত্র। তার আশে পাশের সবাই বিশাল অর্থবান পিতার সন্তান। কিন্তু সে আলাদা। সে এই স্কুলে পড়তে এসেছে স্কলারশিপ নিয়ে। বাবা মা থাকেন বহু দূরে, অরিগনে (USA) একটা কনভিনিয়েন্স স্টোর চালান তারা।
চার্লি বড়দিন উপলক্ষে বাড়ি যাবে, কিন্তু বিমান ভাড়া নেই যে! কি আর করা পার্ট টাইম জব হিসাবে যোগ দিলো কর্ণেল এর সাহায্যকারী হিসেবে। উদ্দেশ্য বিমান ভাড়ার টাকা জমিয়ে বাড়ি যাবে বড়দিনের ছুটি কাটাতে!

কিন্তু কাজ পুরোদমে শুরু করার আগেই স্কুলের কিছু বখাটে ছেলের দুষ্কর্মের সাক্ষী হয়ে ফেঁসে গেলো সে। আল্টিমেটাম দেয়া হলো তাকে - হয় ধরিয়ে দাও অপরাধীদের, নয়ত শেষ তোমার ভবিষ্যৎ! কাজে এসে খেল আরো বড় ধাক্কা! কর্ণেল যে শুধু বদরাগী তাই না, বরং তার আছে বিশাল এক প্ল্যান - জীবনটাকে শেষবারের মতো উপভোগ করতে চান তিনি। তাই তাকে যেতে হবে নিউ ইয়র্ক!

একদিকে স্কুলের ঝামেলা, অন্যদিকে কর্ণেলের খেয়ালীপনা - চার্লি সম্ভবত পেতে যাচ্ছে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো!

প্রিয় পাঠক, আমার মতো নগন্য ব্লগারের পক্ষে রিভিউ লিখে এই মুভির আবেদন বুঝানো সম্ভব নয়। আমার সীমিত ক্ষমতায় যা কুলায় তাই লিখলাম। শুধু এটুকুই বলার আছে - এই মুভিটা না দেখলে আপনার মুভি দেখার ঝুলি থেকে যাবে অনেকটাই অসম্পূর্ণ।

IMDB রেটিং : 7.8/10
আমার রেটিং : 9.5/10

@@@ Md. Nazmush Shakib @@@

স্নায়ুযুদ্ধের সময়কাল। ১৯৬২ সাল। মানব সভ্যতা সম্মুখিন হলো ২য় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর সবচে বড় হুমকির। দুই সামরিক পরাশক্তি - সোভিয়েত ইউনিয়ন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্মুখীন পরস্পরের। পৃথিবী কেঁপে উঠলো ৩য় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায়।

সোভিয়েত ইউনিয়ন চায় কিউবায় মিসাইল বেস বানাতে। যাতে মুহূর্তের ব্যাবধানে ধুলায় মিশিয়ে দেয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রকে! কেন ? কারন, যুক্তরাষ্ট্র গোপনে মিসাইল বেস স্থাপন করেছে তুরুস্কে। ঘরের পাশের এতো বড় হুমকি সহ্য করতে পারে নি সোভিয়েত পলিটব্যুরো! তাই তারা ঠিক করেছে মিসাইল বেস বানাবে কিউবায় - গুঁড়িয়ে দিবে মার্কিন দম্ভ!



কেমন হতো যদি এই রকম হতো আপনার ক্ষেত্রে?


আপনি একজন ছাপোষা সেলসম্যান, নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। জীবনের উপর বিতৃষ্ণা ক্রমশই বাড়ছে। পরিবারের সাথে কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে - দূরে সরে আছেন অভিমান করে।জমজ ভাই সামরিক বাহিনীতে আছে - উচ্চাকাঙ্ক্ষী, মেধাবী, সফল একজন মানুষ। আর আপনি? পুরো উল্টো - উদ্যমহীন একজন মানুষ। কিন্তু ভাইকে আপনি ভালোবাসেন জান দিয়ে, একমাত্র প্রিয়জন আপনার এই দুনিয়ায়। আপনার প্রেরণা।


একদিন খবর পেলেন ভাই মারা গেছে রোড এক্সিডেন্টে। শোকাভিভূত আপনি চিরনিদ্রায় শুইয়ে দিলেন ভাইকে। কিন্তু তার পরেই শুরু হয়ে গেল সব অদ্ভুত ঘটনা।


কে যেন আপনার ব্যাঙ্ক আকাউন্টে পাঠিয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা! খুশি হয়ে টাকা তুলে বাড়ি এলেন - আজ মিটিয়ে দিবেন বাড়িওলির বকেয়া। কিন্তু একি! কারা যেন আপনার রুমে রেখে গেছে বিপুল পরিমান অস্ত্র সস্ত্র! সেই সঙ্গে বিপুল পরিমান বিস্ফোরক আর গোলা বারুদ। আপনি যখন হতভম্ভ হয়ে ভাবছেন এটা কি হলো ঠিক তখনি পেলেন এক রহস্যময় ফোন। নারীকন্ঠে আপনাকে নির্দেশ দেয়া হলো পালিয়ে যেতে। কেন? আপনি নাকি টেররিস্ট তাই আপনাকে ধরতে আসছে এফ বি আই!


হতভম্ভ আপনি পালাতে পারলেন না, ধরা পরে গেলেন এফ বি আই এর হাতে। কিন্তু ওদের ইন্টারোগেশন সেল থেকে আপনাকে বের করে আনলো সেই ফোন কলার! একের পর এক নির্দেশ দিয়ে ব্যাতিব্যাস্ত করে তুললো আপনাকে। আপনি জড়িয়ে পরলেন এক ভয়ানক চক্রান্তে।


প্রিয় পাঠক, এটা একটা মুভির কিয়দংশের বর্ণনা।

ঠিক উপরের বর্ণীত অবস্থায় আপনি Jerry Shaw (Shia LaBeouf) কে দেখতে পাবেন

ঈগল আই

মুভিতে।


দেখতে পাবেন আরও অনেক মানুষকে যারা জড়িয়ে গেছে এই অদৃশ্য নির্দেশ এর জালে। যে নির্দেশ অমান্য করা মৃত্যুর শামিল - হয়তো মৃত্যু থেকেও ভয়ঙ্কর।

কি চায় এই রহস্যময় নির্দেশ দাতা? শুধু মাত্র ফোনেই যার নির্দেশ পাওয়া যায়! কি তার উদ্দেশ্য? জানতে হলে দেখে ফেলুন মুভিটা আর শেয়ার করুন আপনাদের মতামত।


ভালো টাইম পাসিং মুভি। বহুল চর্চিত কনসেপ্ট। আর সিরিয়াস মুভিখোর দের জন্য অবশ্যই রিকোমেন্ডেড নয়। খুব আশা ভরসা না নিয়ে দেখতে বসলে আশা করি ভালই লাগবে।



আই এম ডি বি রেটিং : ৬.৬/১০

আমার রেটিং : ৬/১০

@@@ Md. Nazmush Shakib @@@